উখিয়া সীমান্তে পড়ে আছে কয়েকটি লাশ
২
ফেব্রুয়ারি রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির
সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সংঘর্ষ চলছে। ইতিমধ্যে বিজিপিকে হটিয়ে
তুমব্রু রাইট ক্যাম্প ও ঢেঁকিবুনিয়া সীমান্তচৌকি আরাকান আর্মি দখলে নিয়েছে বলে খবর
পাওয়া গেছে। রোববার দিবাগত রাত তিনটা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টার
শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। সোমবার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের একটি
রান্নাঘরের ওপর মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দুজন নিহত হন। নিহত দুজনের মধ্যে
একজন বাংলাদেশি নারী, অন্যজন রোহিঙ্গা পুরুষ। এ ছাড়া মিয়ানমারের সেনা, সীমান্তরক্ষী
বাহিনীর সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জন বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন। তাঁরা বর্তমানে বিজিবির
হেফাজতে রয়েছেন। আকাশ কিংবা নদীপথে তাঁদের সে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা
চলছে।
গতকাল
দুপুরে উখিয়া সীমান্তের রহমতের বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেলে স্থানীয়
বাসিন্দাদের জটলা দেখা যায়। সেখানে সবাই বলাবলি করছিলেন, কয়েকজন কৃষক তিন থেকে চারটি
লাশ সীমান্তের পাশে পড়ে থাকতে দেখেছেন। বিদ্যালয়টি থেকে ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকিবুনিয়া
সীমান্তের দূরত্ব আধা কিলোমিটার। স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক স্কুলশিক্ষক নুরুল বশর প্রথম
আলোকে বলেন, সীমান্তের এপারে তিন থেকে চারটি লাশ পড়ে আছে, এমনটা জানিয়েছেন স্থানীয়
কৃষকেরা। তবে নিরাপত্তার কারণে কৃষকদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
আবুল
বশরের সঙ্গে কথা শেষ করতে না করতে রহমতের বিল সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের
ভিড়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় একটি লাশের ছবি দেখা গেছে।
উখিয়া
থানার ওসি শামীম হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, উখিয়া সীমান্তের রহমতের
বিল এলাকায় কয়েকটি লাশ পড়ে আছে, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে শুক্রবার
দুপুরে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি লাশগুলো থাকায় নিরাপত্তাজনিত
কারণে পুলিশ তা উদ্ধার করতে পারেনি। তবে চেষ্টা চলছে।
মধ্যরাতে
ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপ
বৃহস্পতিবার
মধ্যরাতে কক্সবাজারের টেকনাফের জিম্বংখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে অভ্যন্তরে ব্যাপক
গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল পুরো দিন শান্ত ছিল। সীমান্তের
ওপারে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কিছু গুলির শব্দ শোনা গেলেও আওয়াজ ছিল ছোট।
সরেজমিনে
দেখা যায়, জিম্বংখালী ও উনচিপ্রাং সীমান্তের এপারে দেড় দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো
বসতি নেই। এই এলাকার মধ্যে কিছু ধানখেত, লবণখেত ও মাছের ঘের রয়েছে। এ কারণে ওপারে গুলি
হলে আওয়াজ ছোট হয়ে কানে আসে। তবে মর্টার শেল নিক্ষেপ হলে বিকট শব্দে এপারের লোকালয়
কেঁপে ওঠে। এ ছাড়া জিম্বংখালী ও উনচিপ্রাং সীমান্ত এলাকায় নাফ নদী রয়েছে। এ কারণে এপারের
মানুষের মধ্যে আতঙ্ক একটু কম। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে কোস্টগার্ডের টহল
দেখা গেছে।

