৯০ পেরিয়েও শতকের কথা ভাবেননি হৃদয়
জয়সূচক
রান নেওয়ার পর থেকেই তাওহিদ হৃদয়কে ঘিরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের উৎসব শুরু। সেটা চলতে
থাকল ড্রেসিংরুমে, পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চেও। অপরাজিত শতকে কুমিল্লাকে ম্যাচ জিতিয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও উঠেছে হৃদয়ের হাতে। এরপর টিভি সম্প্রচারকদের
সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিলেন। ছোট্ট সাক্ষাৎকারের ওই সময়েও হৃদয়কে ঘিরে একটা জটলা বেধে গেল।
সেই ভিড় ঠেলতে ঠেলতেই হৃদয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আসা। কেউ চাইছেন অটোগ্রাফ, কেউ সেলফি।
কেউ এসে পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন।
অবশ্য
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ হৃদয় যা করেছেন, তাতে এই উন্মাদনা বাড়াবাড়ি মনে হবে
না। দুর্দান্ত ঢাকার ১৭৪ রানের পেছনে ছুটতে গিয়ে হৃদয়ের কুমিল্লা ২৩ রান তুলতেই ৩ উইকেট
হারিয়ে বসে। সেখান থেকে ৫৭ বলে ১০৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন হৃদয়। ৮টি চার ও ৭টি
ছক্কায় ১৮৯ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। হৃদয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি
শতক এটি, এবারের বিপিএলেও প্রথম। রান–খরার ঝিমিয়ে পড়া বিপিএলকে জাগিয়ে তুলতে এমন কিছুই হয়তো
দরকার ছিল।
মজার
ব্যাপার হচ্ছে, হৃদয় নাকি শতকের চিন্তা করে ব্যাটিংই করেননি! ৯০–এর
ঘরে এসেও তাঁর ভাবনা ছিল এমন, ‘আমি শুধু চেষ্টা করেছি তাড়াতাড়ি ম্যাচটা শেষ করার।’
অন্য প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘আমি এক শর জন্য খেলিনি। ৯০ রানের পরেও না। চেষ্টা করেছি
ফিনিশ করার।’ ইনিংসের শুরুতে দল যখন ঘোর বিপদে, তখনো একই মানসিকতায়
ব্যাটিং করেছেন তিনি, ‘প্রত্যেক ব্যাটসম্যানেরই স্বপ্ন থাকে এক শ করার। গত
বছর সুযোগ ছিল, আসেনি। এবার হয়েছে। উইকেট গেলেও আমার পরিকল্পনা ছিল মেরে খেলার।’
হৃদয়কে
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মিরপুরের রাতের কন্ডিশন। প্রথম ইনিংসে হৃদয়েরই বয়সভিত্তিক
দলের দুই সতীর্থ মোহাম্মদ নাঈম ও সাইফ হাসান অর্ধশত করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে কন্ডিশন
আরও ব্যাটিং সহায়ক মনে হয়েছে। হৃদয়ই বললেন, ‘অন্য দিনের তুলনায় উইকেট ভালো ছিল।’
বিস্ফোরক ইনিংসটি ৭টি ছক্কায় সাজিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। এতগুলো ছক্কার
মধ্যে কোনটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? প্রশ্নটা শুনতেই হেসে দিলেন হৃদয়, ‘কোনটা
বলতে পারব না। কিন্তু ৬ মারতে ভালোই লাগে (হাসি)।’
ছক্কা
মারতে তো শক্তিও লাগে। হৃদয়ের এত শক্তি এল কীভাবে? তরুণ এই ব্যাটসম্যান হাসতে হাসতে
উত্তর দিলেন, ‘যেটা বললেন, ছয় মারতে পাওয়ার (দরকার হয়), বড় প্লেয়াররা
ওয়েস্ট ইন্ডিজের যারা আছে, তারাই বড় ছয় মারে। আমাদের দেশের ব্যাটাররাও বড় ছয় মারে।
আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন, প্রত্যেকটা ব্যাটারই বড় বড় ছয় মারে।’

