Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

মর্টার শেলে দুজন নিহতের পর সীমান্তের জলপাইতলী গ্রাম ছাড়ছে মানুষ

মর্টারশেলের আঘাতে দুজন নিহত হওয়ার পর জলপাইতলী গ্রামের মানুষ অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। আজ বিকেল সাড়ে চারটায় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের বেতবুনিয়া বাজার এলাকায়


মিয়ানমারের সীমান্ত লাগোয়া বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের গ্রাম জলপাইতলী। এ গ্রামে আজ সোমবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে নিহত হন এক বাংলাদেশিসহ দুজন। এর পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এলাকার লোকজন গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক থেকে বালুখালী কাস্টমস থেকে পূর্ব দিকে এশিয়ান হাইওয়ে। এশিয়ান হাইওয়ের বেতবুনিয়া বাজার থেকে এক কিলোমিটার পূর্বে ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকা। এই এলাকার একটি টিলায় বাদশা মিয়ার বাড়ি। তাঁর বাড়িতে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল পড়ে বাদশা মিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা (৫৫) ও তাঁদের বাড়িতে ধানখেতে কাজ করা রোহিঙ্গা শ্রমিক নবী হোসেন ((৬৫) নিহত হন। আহত হয় হোসনে আরার ছয় বছর বয়সী নাতনি নুশরাত মনি। সে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মর্টার শেলে নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় গ্রামবাসী আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন।

বেতবুনিয়া সড়কে বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, এক ঘণ্টায় জলপাইতলী গ্রামসহ আশপাশের আরও দুটি গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকে অন্যত্র যাচ্ছেন। জলপাইতলী গ্রামের ছালেহা বেগম (৪০) বলেন, মর্টার শেলের আঘাতে দুজন নিহত হওয়ার পর বাচ্চাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা কোনোভাবে ঘরে থাকতে চাইছে না। এ কারণে তাদের নিয়ে বালুখালী এলাকায় বোনের বাড়ি যাচ্ছেন।



বেতবুনিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শামশুল আলম বলেন, মিয়ানমার থেকে কিছুক্ষণ পর পর মর্টার শেল ও গুলি এসে পড়ছে বাড়িঘরে। এ জন্য দোকান বন্ধ করে দিয়ে পরিবার নিয়ে কুতুপালং বাজারে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি মর্টার শেল হোসনে আরার বসতবাড়ির রান্নাঘরে এসে পড়েছে। এতে দুজন নিহত হন। এরপর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। কেউ কেউ নিরাপদে থাকতে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এলাকায় আছেনও।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.